স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে দরপতনের পর তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানের দেখা মিলেছে। মুলত বীমা খাতের শেয়ারে ভর করে সূচকের উত্থান হয়েছে। তবে বীমা খাতের শেয়ারের দাম বাড়লেও অন্য খাতের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ফলে সূচক কিছুটা বাড়লেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। কারণ এর আগেও মাঝে মধ্যে সূচকের উকি মারলেও পরের দিন সূচকের পতন হয়েছে। এছাড়া আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোন আমেজ নেই পুঁজিবাজারে।

বিশেষ করে অনিয়ম, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতায় পুঁজিবাজার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তার ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে। ফলে সূচক মাঝে মধ্যে নড়াচড়া করলেও বাজারে প্রত্যাশিত গতি ফিরছে না। লেনদেনেও দেখা দিচ্ছে খরা। যার ফলে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও তা ৩০০ কোটি টাকার ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তবে নির্বাচনের আতঙ্ক কেটে গেলেও ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে ফলে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৪৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৯৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯ টির, দর কমেছে ১৫৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৫ টির। ডিএসইতে ৩৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৭ টির এবং ৩২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।