পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির হিড়িক, ডিসেম্বরে বিদেশিদের বিনিয়োগ কমেছে ১২০ কোটি টাকা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টালমাটাল পুঁজিবাজারে দেশি বিনিয়োগকারীদের মতোই বিদেশিদের মধ্যে রয়েছে পুঁজি হারানোর ভয়। এ ভয়ে প্রবাসী ও বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করছেন। তারা যে শুধু ঝুঁকি কমাতেই শেয়ার বিক্রি করছেন তা নয়; বরং টাকা নিয়ে পুঁজিবাজার ছেড়েই চলে যাচ্ছেন। ফলে পুঁজিবাজারে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি করার পরিমাণ তাদের কেনা থেকে বহুগুণ বেশি। ফলে দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য মাসে বিদেশিরা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও তার বিপরীতে ক্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ লাখ টাকা। এর ফলে মাস শেষে নিট বিদেশি বিনিয়োগে এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মূলত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন ‘ব্লু-চিপ’ শেয়ারগুলো বিক্রির মাধ্যমেই তারা বাজার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, ডিসেম্বর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। একই সময়ে তাদের শেয়ার কেনার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ লাখ টাকা। এতে মাস শেষে বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের নিট ঘাটতি তৈরি হয়। বিদেশি বিনিয়োগ কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টে। নভেম্বর মাসে কোম্পানিটিতে বিদেশি মালিকানা ছিল ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে তা নেমে আসে মাত্র শূন্য দশমিক ০১ শতাংশে। এর ফলে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হয়।
সিটি ব্যাংকেও বিদেশি মালিকানা কমেছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকটিতে বিদেশি অংশ কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। এতে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। গ্রামীণফোনে বিদেশি মালিকানা শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রায় ২৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালেও বিনিয়োগ কমেছে। ডিসেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশি মালিকানা নেমে আসে ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশে। এর ফলে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে।
এ ছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, রেনাটা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও যমুনা অয়েলেও বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে। তবে একই সময়ে প্রাইম ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা সামান্য বেড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব রয়েছে। বিদেশি মালিকানার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এরপর রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যেখানে বিদেশি মালিকানা ৩২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে বিদেশি মালিকানা ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসে ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের একটি বড় অংশ আসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে। এর বাইরে নরওয়ের সার্বভৌম তহবিলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে।

