শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: মন্দাভাব কাটিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের শেয়ারে ভর কর ডিএসইতে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এমনকি সূচকের টানা উত্থানে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে দীর্ঘ মন্দা ও অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানামুখী নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে বাজারে গতিশীলতা ফিরে এসেছে।

ফলে পুঁজিবাজারে গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন ও সূচক অবস্থান করছে। তবে আস্থাহীন পুঁজিবাজারে এখন আস্থা ফেরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএসইসি। এমনকি স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে শুরু করছে পুঁজিবাজার। তেমনি সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দও ও টাকার পরিমানে লেনদেন। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ব্যাংক, বস্ত্র, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, ও প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, এবং বড় মূলধনি কিছু কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোয় ক্রয়চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচকের উত্থান প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯১১ পয়েন্টে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্টের পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসলো। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯৫২ পয়েন্টে ছিলো। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২২৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৯ টির, দর কমেছে ১৩৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৩২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৫২টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৩৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৯ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা।