শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: নতুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কমিশনের স্বচ্ছ ও পেশাদার নেতৃত্বের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এর ফলে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশ্নে সংসদ সদস্য বলেন,মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে বলবেন কি গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুঁজিবাজার লোটপাটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে জনসম্মুখে তাদের তালিকা প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা, নেয়া থাকলে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?

উত্তরে মন্ত্রী জানান, গত সরকারের সময়ে পুঁজিবাজারে কারসাজি ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো)-এর শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪২৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএসইসি গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্পূরক প্রশ্নে করে সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান জানতে চান, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং অসৎ ব্যক্তিদের বিএসইসিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জনমনে ধারণা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগ এড়ানো হবে কি না এবং আগের কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা ও তদন্ত চলছে।নতুন করে বিএসইসি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং আরও একজন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই পেশাদার, যাদের আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের যোগ্যতা নিয়ে সরকারের কোনো প্রশ্ন নেই।

তিনি দাবি করেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আস্থাভিত্তিক একটি পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান হচ্ছে।