পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে শেয়ার নেটিংয়ে ডিএসইর প্রস্তাব, শর্তে বেঁধে দিল বিএসইসি
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি ও তারল্য বাড়াতে ‘শেয়ার নেটিং’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে রেখে এই ব্যবস্থায় এখনই ছাড় দিতে রাজি নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত না হলে নেটিং চালু করা হবে না এমন অবস্থান জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। শেয়ার নেটিং বা স্ক্রিপ নেটিং একটি ইনট্রাডে ট্রেডিং পদ্ধতি।
এতে একই কার্যদিবসে একটি নির্দিষ্ট শেয়ার একাধিকবার কেনাবেচা করা যায় এবং দিন শেষে মোট অবস্থান সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এই ব্যবস্থায় বাজারে লেনদেন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর সঙ্গে শর্ট সেলিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় যুক্ত থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নীতিগতভাবে কমিশন শেয়ার নেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে না। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। সে কারণে ডিএসইর প্রস্তাব বাতিল না করে আগে নিজেদের সক্ষমতা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সতর্ক অবস্থানের পেছনে অতীত অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে। বর্তমানে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে নেতিবাচক ইক্যুইটির সমস্যায় রয়েছে। পাশাপাশি আগের ক্যাশ তছরুপের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু বিনিয়োগকারী এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এসব প্রেক্ষাপটে নেটিং বা শর্ট সেলিংয়ের মতো জটিল পদ্ধতি চালু করা নিরাপদ নয় বলে মনে করছে কমিশন।
বিএসইসির মতে, শেয়ার নেটিং কার্যকরভাবে চালু করতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো হলো আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু, শর্ট সেলিংয়ের জন্য স্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাজারে সব সময় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম সক্রিয় মার্কেট মেকার গড়ে তোলা।
মুলত পুঁজিবাজারে অটোমেশন চালুর পর এক সময় ডিএসইতে সীমিত পরিসরে নেটিং সুবিধা ছিল। তখন লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান বড় ও জটিল বাজার কাঠামোয় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই ব্যবস্থা পুনরায় চালু করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

