স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আস্থাহীনতা থাকায় দিন দিন বাজারবিমুখ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তেমনি পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে কমেছে সূচক ও লেনদেন এবং কমেছে মূলধন কমেছে। ফলে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী। তবে নতুন বছরের শুরুতে গত সপ্তাহে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও চলতি সপ্তাহের শুরুতেই হঠাৎ বড় পতনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বিনিয়োগকারীরা।

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভ্যন্তরীণ কারণ না থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায় মার্কিন চাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। তবে পতনের ধাক্কা কাটিয়ে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। এ অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারিতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ যেমন এক সময় বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছিল, তেমনি এ পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

কারণ পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির যেকোনো অস্থিরতার প্রভাব এখানেও পড়ে। তবে এ পরিস্থিতিতে শেয়ার বিক্রি করে দেয়া কোনো সমাধান নয়; বরং ধৈর্য ধরাই বিনিয়োগকারীদের জন্য শ্রেয়। কারণ পুঁজিবাজার সামনে ভাল হওয়ার নানা কারণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ডিএসইর পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থা খুই ভয়াবহ। সম্প্রতি বাজারে যে লেনদেন হচ্ছে, এই লেনদেন দিয়ে কোনোভাবেই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব না। বিশেষ করে ছোট ছোট ব্রোকারের অবস্থা অনেক খারাপ। ফলে কোন ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৪২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৯৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪০ টির, দর কমেছে ১৭৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৮ টির। ডিএসইতে ৩৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৩ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।