গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ভেলকিবাজিতে ২২৫৯ কোটি টাকা লুট, আইন লঙ্ঘনের হিড়িক!
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদন এখন প্রমাণিতভাবে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জালিয়াতি হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন জালিয়াতি করে ‘ভেলকিবাজি’র মাধ্যমে প্রায় ২২৫৯ কোটি টাকার লোকসান লুকিয়ে শতকোটি টাকার মুনাফা দেখানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এদিকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের ব্যবসায় বড় লোকসান হয়েছে। যা কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের থেকে বেশি। এমন পতনে কোম্পানিটির সম্পদের ঋণাত্মকের পরিমাণ আরও বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিগত কমিশনের অনুমোদনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পুঁজিবাজার থেকে ২০২২ সালে ৪২ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৪২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। যে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিনেই অভিহিত মূল্যের নিচে বা ১০ শতাংশ কমে ৯ টাকায় লেনদেন হওয়ার রেকর্ড গড়েছিল।
এ ব্যাংকটির ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (১৬.৫৬) টাকা। এ হিসাবে ১ হাজার ৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৬ মাসেই নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২৪ সালের ব্যবসায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় (১২.৬২) টাকা। এ হিসাবে ওই বছরে নিট লোকসান হয় ১ হাজার ৩০৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ব্যবসায় এমন পতনে ব্যাংকটির গত ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ (এনএভিপিএস) নেমে এসেছে ঋণাত্মক (৩৮.৩৩) টাকায়। অর্থাৎ ব্যাংকটির এখন অবসায়নে গেলে শেয়ারহোল্ডাররা কোন কিছুই পাবে না।
ব্যবসায় এই ধসের কারন হিসেবে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ মাসে ৫৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিচালন লোকসান ও ১ হাজার ৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা সঞ্চিতি গঠন করায় বড় লোকসান হয়েছে। একই কারনে রিটেইন আর্নিংস ৪ হাজার ৯৭৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ঋণাত্মকে নেমে এসেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত এক অডিট প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখা গেছে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক প্রকৃতপক্ষে ২২৫৯ কোটি টাকার বিশাল লোকসান দিলেও, ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিট বা স্থিতিপত্রে কারসাজির মাধ্যমে দেখিয়েছে ১২৮ কোটি টাকার মুনাফা।
এদিকে ব্যাংকটির ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ট বা লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত এই প্রতারণাকে আরও গভীর করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি এই ঘোষণা অনুমোদিত হতো, তাহলে এই ভুয়া ১২৮ কোটি টাকার তথাকথিত মুনাফা মূলত বিতরণ হতো এস আলম, তার পরিবার এবং সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আর্থিক ভেলকিবাজির জন্য ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ এর আশ্রয় নেয়। তারা ব্যাংকটির বিপুল পরিমাণ মন্দ ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) গোপন করে, যা প্রভিশনিংয়ের বাধ্যবাধকতা এড়াতে ও কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে দেখাতে করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ব্যাংকের নির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই জালিয়াতিপূর্ণ হিসাব অনুমোদনের কথাও ছিল, যেটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। সভাটি বাতিল করা হয় ঠিক তিন দিন আগে, ৫ আগস্ট, যেদিন ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক এক গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। লীগের এই রাজনৈতিক বিপর্যয় অজান্তে হলেও সেই ১২৮ কোটি টাকার ‘ভুয়া’ মুনাফা বিতরণকে ঠেকিয়ে দেয়। না হলে এসব অর্থ মূলত এই ভাঁওতাবাজির নেপথ্য কুশীলবদেরই পকেটে যাওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু ২০২৩ সালের প্রতিবেদনই নয়, আগের কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে পরিসংখ্যানগত দুর্নীতি হয়েছে মন্তব্য করেন নুরুল আমিন। প্রকৃত খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ গোপন রাখা হয়েছিল। যেসব ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা, সেগুলোকে নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়েছে, যাতে খেলাপির হার কম দেখানো যায় এবং মুনাফা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো যায়। জানা গেছে, ২০২৩ সালে ব্যাংকটি তাদের খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশেরও কম দেখিয়েছিল। অথচ প্রকৃত এনপিলের হার ছিল অনেক বেশি, ২০২৪ সালে তা ৮৭ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপুল এই পার্থক্যই বলে দেয়, কীভাবে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ব্যাংককে চটকদার বার্ষিক প্রতিবেদনের আড়ালে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২০২৩ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইকারী অডিট প্রতিষ্ঠান শফিক বসাক অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এখন বিতর্কের মূল কেন্দ্রে। ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), ওই হিসাবে স্বাক্ষরকারী অডিটরসহ সব পক্ষের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভুল প্রতিবেদন বা জালিয়াতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নাকি অডিটরদের কাছ থেকে এসেছে, তা নির্ধারণ করতে হবে, এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল। এই অনিয়মের পেছনে মূলত সবারই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা রয়েছে।
এদিকে ২০২৩ সালের প্রথম আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১৩১৪১ কোটি টাকা বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ছিল ৩৪২.৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র ২.৬১ শতাংশ। তবে ব্যাংকটির সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত অডিটরদের করা নিরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রকৃত খেলাপির পরিমাণ ছিল ২০২৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে এবং লোকসানের পরিমাণ আবারও ২০০০ কোটি টাকার ঘর ছাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কমিশন বিষয়টি তদন্ত করবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, শুধু ২০২৩ সাল নয়, আগের কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে পরিসংখ্যানগত দুর্নীতি হয়েছে। আগের ম্যানেজমেন্টের সময় ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন রাখা হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকে মারাত্মক তারল্য সংকট ছিল। আমরা ব্যাংকটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। ব্যয় সংকোচন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তা চেয়ে ব্যাংক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।
এছাড়া ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিচালকদের হাতে আছে মাত্র ১৪ শতাংশ শেয়ার, যা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; ব্যাংক স্বেচ্ছায় আইন ভঙ্গ করেনি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মোট ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ৮৬ শতাংশের বেশি ঋণ। কেবল ব্যাংকটির খাতুনগঞ্জ শাখা থেকেই সাবেক এমডি পিকে হালদারের নেতৃত্বে দেওয়া হয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
কাগজে-কলমে এই ঋণের পরিমাণ ৩২৭ কোটি টাকা দেখানো হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়াবহ ঋণ খেলাপির চিত্র। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দখলের মাধ্যমে আলোচনায় আসে এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ আছে, গ্রুপটি সিঙ্গাপুরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে গ্রুপটির প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এভাবে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় ব্যাংকটি। দায়িত্ব নিয়েই নতুন বোর্ড ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট শুরু করে, যেখানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৯ টাকা ০৬ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ পয়সা। জানুয়ারি-জুন মেয়াদে ইপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ১৬ টাকা ৫৬ পয়সা, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৯৭ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) এই সময়ে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৯ টাকা ০৮ পয়সা; গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১ টাকা ৩০ পয়সা। নগদপ্রবাহ হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে বিনিয়োগ আয়ে ৮৬১.৩৪ কোটি টাকা কমে যাওয়া এবং আমানতে মুনাফা প্রদানে ৩১৪.২৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়াকে উল্লেখ করেছে ব্যাংক।
৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৮ টাকা ৩৩ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। এনএভি হ্রাসের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের প্রভিশন চার্জ এবং চলতি মেয়াদে আরও ১,০৭০.৪৩ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা জানিয়েছে। এর ফলে রিটেইনড আর্নিংস ঋণাত্মক ৪,৯৭৪.২৩ কোটি টাকায় নেমে গেছে।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান বলেন, বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় আমাদের স্পন্সর-ডিরেক্টরের সংখ্যা কমে গেছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এখনো সন্তোষজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা ভঙ্গ করিনি এবং বিষয়টি বিএসইসিকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশনের মাধ্যমে বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংক বর্তমানে মার্জার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মার্জার সম্পন্ন হলে সুশাসন ও আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দর বর্তমানে ফেসভ্যালুর নিচে। ব্যাংকটি ১০,৩৬৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন এবং ২০,০০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০১৯ সালের ২১ মে বিএসইসি সিদ্ধান্ত নেয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হলে ‘কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮’ অনুযায়ী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু গত তিন মাসে এ বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির প্রাইমারি রেগুলেটর আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় বিএসইসি বিতর্কে যেতে চায় না। তবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের আইন বহাল থাকবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কমিশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

