স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলা বর্ষের প্রথম কার্যদিবসে উজ্জ্বল ছিল পুঁজিবাজার। বাজারের সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকার পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। একইভাবে বাড়তে দেখা যায় লেনদেনও। তবে এতে উচ্ছ্বসিত নন বিনিয়োগকারীরা, কারণ পুঁজিবাজারে হঠাৎ আলোর ঝলকানি চান না তারা। তাদের প্রত্যাশা, বাজারের ধারাবাহিক স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, নতুন বছর থেকে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ পাবেন।

তাছাড়া বিদায়ী বছর ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়ে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উধাও হয়ে গেছে। তবে নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবস ও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থানের সাথে লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বিনিয়োগকারী নূরুল ইসলাম বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও পুঁজিবাজারে আমার বিনিয়োগ রয়েছে। আমার ছোট ভাই এ বিও অ্যাকাউন্টের দেখভাল করেন। পুঁজিবাজার ভালো হবে, এমন আশার কথা শোনার পর গত বছর নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করি। কিন্তু বছর শেষে দেখছি, পোর্টফলিওর অবস্থা নাজুক। লাভের আশায় বিনিয়োগ করে উল্টো লোকসান হয়েছে। আশা করছি নতুন বছরে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখব। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে দেখব একটি স্থিতিশীল পরিবেশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আশা-নিরাশার দোলাচলে নতুন বছরে সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এ বছর স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারে গতিশীল করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সরকারের হাত ধরে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে। সেই সঙ্গে পুঁজিবাজারেও গতি ফিরে পাবে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৩ টির, দর কমেছে ৬৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২ টির। ডিএসইতে ৩৬৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৯২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৮ টির এবং ১২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।