স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থানে শেষ হয়েছে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে ভর করে সূচক ও লেনদেনের উত্থান হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে দর বাড়ায় কিছুটা হলেও আস্থা ফিরছে বিনিয়োগকারীদের।

মুলত ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক পুঁজিবাজারে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। ফলে ডিএসইতে দীর্ঘ চার মাসের ব্যবধানে সূচক ও লেনদেনে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সামনে ব্যাংক ও বীমা এবং আর্থিক খাতের অর্থবছর শেষ হবে। ফলে এ তিনটি খাতে লভ্যাংশ ঘোষণাকে সামনে রেখেই আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া পুঁজিবাজারের লেনদেনের এ গতি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ নির্বাচন শেষে দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারমুখী হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি পুঁজিবাজার আচরণে যে ইতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। সামনে গণতান্ত্রিক সরকার এলে দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে যার প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়বে। এ প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ব্যাপক লোকসানের মধ্যে থাকা বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।

যে ব্যাংক খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি লোকসানের মধ্যে রয়েছেন সেই ব্যাংক খাত দিয়েই তারা নিজেদের পুঞ্জীভূত লোকসান পুষিয়ে নিতে চান। তাই সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। তা ছাড়া বাজারে সূচকের উন্নতিতে বরাবরই ব্যাংক খাতটির অবদান থাকে বেশি। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে যখনই সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটেছে তা ব্যাংক খাতের ওপরই ভর করে।

জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৬ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৫ টির, দর কমেছে ১০৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৮ টির। ডিএসইতে ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬০ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।