পুঁজিবাজারে বীমা-বস্ত্র খাতের শেয়ারের ঢালাও দরপতন তবুও বেড়েছে সূচক
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে বীমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। তবে বাছাই করা ও বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। ফলে দাম তার তালিকা বড় হলেও মূল্যসূচক বেড়েছে। অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
এছাড়া বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের পাশাপাশি ব্যাংক, ওষুধ-রসায়ন, প্রকৌশল খাত সহ বিভিন্ন মাঝারি ও ছোট মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান প্রবণতা দেখা যায়। তবে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বিমা ও বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামে ঢালাও পতন হতে থাকে। বিমা ও বস্ত্রখাতের পতনের হাওয়া লাগে অন্যান্য খাতেও। ফলে বড় হয় দাম কমার তালিকা। অবশ্য এই পতনের মধ্যে দাম বাড়ার ধারা ধরে রাখে বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানি। এতে দাম কমার তালিকা বড় হলেও মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
খাত ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ব্যাংক, বস্ত্র, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, ও প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, এবং বড় মূলধনি কিছু কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোয় ক্রয়চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচকের উত্থান প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৪২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১ টির, দর কমেছে ২১৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৫১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৫৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৫ টির এবং ৩০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

