কমিশনের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে কোন অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না, ভয়ের কিছু নেই
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বর্তমান পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সূচকের অস্থিরতা, লেনদেনের নিম্নগতি, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং অতীতের শেয়ার কারসাজির অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে হঠাৎ বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারে তদন্তের খবরে আবারও শুরু হয়েছে ‘প্যানিক সেল’।
ডিএসইতে সূচকের বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে, এই ভয়ে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। আর তাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৮৫ পয়েন্ট। এমনকি চলতি মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। এছাড়া নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস যেতে না যেতেই হঠাৎ সূচকের বড় দরপতন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে দরপতনের কারণ কী নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তেমনি বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ বিএনপি সরকার ও পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থার নাম।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
এমন অবস্থায় বাজার নিয়ে ডিএসইর হস্তক্ষেপে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে পুঁজিবাজারে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৬২টি কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’-এর মুখে রয়েছে। এরও আগে ডিএসই ৪২টি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তালিকায় কিছু নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া ও কার্যক্রম চালু থাকা কোম্পানির নামও থাকায় বাজারে বিতর্ক তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বললেন, মার্কেট সার্ভিল্যান্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে যে নজরদারি কার্যক্রম চলছে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। ২০১৩ সাল থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে এ ধরনের সার্ভিল্যান্স পরিচালনা করে আসছে।
তিনি জানালেন, কমিশনের পক্ষ থেকে বাজারে কোনো ধরনের অযাচিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতেও করা হবে না। একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

