শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। বর্তমানে বড় বড় বিদেশি কোম্পানি এবং তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করি বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

আজ সোমবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সংখ্যার বাইরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে, যা সবার জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, জেপি মরগান তার সঙ্গে দেখা করেছে এবং তারা বিনিয়োগ করতে চায়। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররাও আসতে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। অর্থমন্ত্রী জানান, তরুণ প্রজন্মের জন্য বর্তমান বাজেটে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর অব্যাহতি রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক আয় আনার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণের ঝামেলা কমানো হয়েছে। রেমিট্যান্স প্ল্যাটফর্মকে একদম ফ্রি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পেপ্যালসহ কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে এবং সরকার এসব প্ল্যাটফর্মকে দেশে আনতে কাজ করছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক রিয়েল টাইম ব্যবস্থায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সিম ফ্রি করে দিয়েছি। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যত কিছু আছে সব কিছু কমিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা ডিজিটাল দেশ হতে চাই। মুখের কথায় ডিজিটাল নয়, রিয়েল ডিজিটাল হতে চাই। তিনি আরও বলেন, সবকিছু ডিজিটালাইজড হলে কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হবে এবং সরকারি অফিসে যেতে হবে না। মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে সেবা নিতে পারবে, এতে দুর্নীতি কমবে এবং ফিজিক্যাল কন্টাক্ট কমে আসবে।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং জনগণের উচ্চ আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগের অর্থনীতি ছিল পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক, যেখানে কিছু গোষ্ঠীর সুবিধা বেশি ছিল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কম ছিল। এখন অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করার দিকে সরকার এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিতে যদি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকে, অর্থনীতির সুফল যদি তাদের কাছে না যায় তাহলে ওই যে সংখ্যার কথা বলা হয়, তার কোনো মূল্য নেই। সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষ, বাউল, পালাগান ও থিয়েটার সংশ্লিষ্টদের মূলধারার অর্থনীতিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।