স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে হঠাৎ বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারে তদন্তের খবরে আবারও শুরু হয়েছে ‘প্যানিক সেল’। ডিএসইতে সূচকের বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে, এই ভয়ে বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ব্যাংক-বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং প্রকৌশলসহ প্রায় সব খাতের শেয়ারের দাম কমেছে। আর তাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৮৫ পয়েন্ট। এমনকি চলতি মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। এছাড়া নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস যেতে না যেতেই হঠাৎ সূচকের বড় দরপতন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে দরপতনের কারণ কী নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তেমনি বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ বিএনপি সরকার ও পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থার নাম।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।

এমন অবস্থায় বাজার নিয়ে ডিএসইর হস্তক্ষেপে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে পুঁজিবাজারে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৬২টি কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’-এর মুখে রয়েছে। এরও আগে ডিএসই ৪২টি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তালিকায় কিছু নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া ও কার্যক্রম চালু থাকা কোম্পানির নামও থাকায় বাজারে বিতর্ক তৈরি হয়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় সূচকের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে দিনের শেষে বাজারে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। তবে বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। দ্রুত বাজার স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬ টির, দর কমেছে ৩১৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪ টির। ডিএসইতে ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮২ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৩৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৭৪ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।