স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালো আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ। তাই যে কোন মূল্যে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া  লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতা ছিল।

ফলে বড় পতনের পর পুঁজিবাজারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ফলে বড় কারেকশনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। আশা করা যায় নতুন মাসের শুরুতে ঘুরে দাঁড়াবো পুঁজিবাজার। যার ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ এবং বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। এতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েই শেষ কার্যদিবসের ইতি টেনেছে পুঁজিবাজার। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। কারণ অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেন শেষে তা পতনে রূপ নেয়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সকাল থেকে ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। এ প্রত্যাশাতেই বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী শেয়ার ধরে রেখেছেন। ফলে সূচক ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা কমেছে।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৩৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৭৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭০ টির, দর কমেছে ১৩৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৩ টির। ডিএসইতে ৪৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৮৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭২ টি কোম্পানির লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৩ টির এবং ৩২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।