বেক্সিমকো গ্রুপের ৩ কোম্পানিকে বোর্ড সভা করার নির্দেশ বিএসইসির
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের ৩ কোম্পানি বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ও শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসিকে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ সভা সম্পন্ন করার আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯৯৫তম জরুরি কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আদেশ অনুযায়ী বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিকসে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকের সমন্বয়ে আদেশ জারির ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ সভা সম্পন্ন করতে পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিএসইসি আরো উল্লেখ করেছে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়মিত দাখিল করা ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। তবে কোম্পানিগুলো ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন, বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিবেদন দাখিল করতে ও এজিএম করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আদেশে আরো বলা হয়েছে, গত বছরের শুরুতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত আদেশের ওপর উচ্চ আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ আপিল বিভাগ স্থগিত করায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের আদেশ বর্তমানে কার্যকর ও বলবৎ রয়েছে। উপরোক্ত ব্যর্থতাসহ অন্যান্য আইনানুগ ও নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়া অপরিহার্য।
তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের আওতাধীন উল্লিখিত তিন কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন নিশ্চিত করতে ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ সভা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য পর্ষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণত এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নামমাত্র জরিমানা আরোপ করা হয়, তাও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের তিন থেকে পাঁচ বছর পর। আরও উদ্বেগজনক হলো এই জরিমানার বড় অংশই আদায় করা সম্ভব হয় না।
অনাদায়ী জরিমানা আদায়ে কমিশনকে বছরের পর বছর সার্টিফিকেট মামলা পরিচালনা করতে হয়, যেখানে মামলা পরিচালনার খরচেই সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ফলে কার্যকর ও সময়োপযোগী আইনি প্রয়োগ ছাড়া পুঁজিবাজারে সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

