পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় ডিবিএ
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার পাশাপাশি এ সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সই করা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়েছে। একই চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডিবিএ বলেছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও বাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল সুবিধা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজারের তারল্য ও স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এ বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। তবে এ সুবিধার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় সুবিধাটি প্রত্যাহার না করে বরং আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে ডিবিএ।
সংগঠনটির ভাষ্য, দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তারল্য সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে তারল্য সরবরাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের সীমা ও মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।
ডিবিএ মনে করে, বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাজারের তারল্য ও গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এটি সহায়ক হবে।
এ ছাড়া এ সুবিধা পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে ব্রোকারদের সংগঠনটি। ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং এর মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে ডিবিএ।

