শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও আস্থা সংকটে কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ গত সপ্তাহেও একই চিত্র ছিল টানা চার দিন দরপতনের পর এক কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সেই ধারাবাহিকতা চলতি সপ্তাহেও অব্যাহত থাকায় বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নিঃসন্দেহে একটি সুপরিকল্পিত চক্রের খেলা।

তারা বলছেন, গত সপ্তাহে বুধবার অর্থাৎ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে উত্থান ঘটেছিল; চলতি সপ্তাহেও ঠিক একই দিনে সেই দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে বাজারে কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে এদিন সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কমিশনের আমলে বাজার মনিটরিং যথাযথভাবে না হওয়ার প্রভাবই পুঁজিবাজারে পড়ছে। তারা মনে করছেন, সঠিক তদারকি থাকলে টানা চার কার্যদিবস পতনের পর হঠাৎ একই ধরনের উত্থান ঘটত না। তাই আগের ও চলতি সপ্তাহের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীকালও পতনের আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশন যে ব্যর্থ হচ্ছে, তা স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজার তলানিতে পৌঁছাবে এবং বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাবে। তাই পুঁজিবাজারের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৬৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯১ টির, দর কমেছে ১৩৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬ টির। ডিএসইতে ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৫ টির এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।