শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের স্পিনিং ইউনিট বন্ধ হলেও শেয়ার দর বৃদ্ধির পেছনো কারসাজিচক্র। কৃত্রিমভাবে শেয়ার দর বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অকাল্পনিক গল্প। যেখানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে শেয়ারদর বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। সেখানে ধারাবাহিক ভাবে দর বাড়ছেই। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্তে নেমেছে কারসাজি চক্রকে চিহ্নিত করতে।

তবে বিএসইসির তদন্তে থেমে নেই সায়হাম টেক্সটাইলের কারসাজি। ফলে পুঁজিবাজারের কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে অনেকটাই রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বিএসইসির তদন্তের মাঝে ও কারসাজির আশঙ্কার মধ্যেও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

কোম্পানিটি গত ১০ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১ জুন ২০২৬ থেকে স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কারখানার ভবন পুনর্নির্মাণ, নতুন আধুনিক স্বয়ংক্রিয় স্পিন্ডল যন্ত্রপাতি স্থাপন, যন্ত্রপাতি চালু করা এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনের জন্য স্পিনিং ইউনিটের কার্যক্রম প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকবে।

তারপরও শেয়ারদর বাড়ছেই, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ? চলতি বছরের মে মাসের ২০ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। যা বর্তমান ৭ অক্টোবর শেয়ারদর ৪৬ টাকা ২০ পয়সা। তবে তিন মাসে শেয়ারদর বেড়েছে ১৪০ শতাংশ।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত তিন মাসে ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ কোম্পানির মুনাফা কম এবং মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল ১৯ টাকা ৫০ পয়সা। বুধবার লেনদেন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ তিন মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২৬ টাকা ৭০ পয়সা বা প্রায় ১৪০ শতাংশ। গত তিন মাসে দর বৃদ্ধির দিক থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ারদরের এমন উল্লম্ফনের কারণ জানতে কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ডিএসই। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারটির দর বাড়ছে। ফলে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের সঙ্গে শেয়ারদরের এই উত্থানের সামঞ্জস্য কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে শেয়ারদরের তুলনায় মুনাফার চিত্র দুর্বল দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৫১ পয়সা।

১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯০.৫৬ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৬৫.৮০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বাইরে বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে। ফলে শেয়ারটির দর ওঠানামা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগমূল্যেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।