স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে বীমা খাতে শেয়ারে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। ফলে বীমা খাতের শেয়ারের দরপতনে সূচকের বড় পতন হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানোর পরের কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রায় সবকটি বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ার দামে কমেছে। এতে সার্বিকভাবে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই)ও দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় দাপট দেখায় বীমা কোম্পানিগুলো। ডিএসইতে ৫৬টি বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে মাত্র দুটির দাম কমে। এতে সার্বিক পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে।

ফলে লেনদেনের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক বিমা কোম্পানি দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বিমাখাতের ঢালাও দরপতনের সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৩০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩ টির, দর কমেছে ২১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯০ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।