স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে টানা কয়েক কার্যদিবসের দরপতনের পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসেও সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে বিমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। মুলত বাজারে বিক্রয়চাপ আগের দিনের তুলনায় কমে আসায় এবং নির্দিষ্ট কিছু খাতে সীমিত ক্রয় আগ্রহ বাড়ায় সূচকে সামান্য ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যায়।

তবে ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। তবে সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও আস্থার ঘাটতি এখনও বজায় থাকায় বাজার পূর্ণাঙ্গভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে ঈদ পরবর্তী পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেন শুরু থেকেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বিমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলে। তবে লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বিমা ও আর্থিক খাতের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু লেনদেনের শেষ দিকে অন্য খাতের বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখীও কমে। অবশ্য বিমা ও আর্থিক খাতের কল্যাণে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা দরপতনের পর বাজারে এখন স্বল্পমেয়াদি রিবাউন্ড দেখা গেলেও এটি স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিতে হলে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়া জরুরি। তা না হলে বাজার আবারও সীমিত পরিসরে ওঠানামার মধ্যেই থাকতে পারে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮১ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৪ টির, দর কমেছে ১৩১টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬ টির। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকার। যা আগের দিন থেকে ১৬৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১০টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৫টির আর ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।