শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে কোনোভাবেই কাটছে না দরপতনের বৃত্ত। বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রির চাপে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে এদিন সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। মুলত নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের ঘাটতি ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পতনের ধারাতেই আছে পুঁজিবাজার।

দিনজুড়ে সীমিত পরিসরে ক্রয় আগ্রহ থাকলেও শেষ ভাগে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও আস্থার সংকটে কার্যক্রম শেষ হয় নেতিবাচক ধারায়। বিশেষ করে ব্যাংক, ব্লু-চিপ ও ওষুধ খাতের কিছু শেয়ারে বিক্রিচাপ প্রধান সূচকের পতনকে দ্রুত করে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিস্কিয়তার কারণেই বাজার টানা নেতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সূচকের পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও। ফলে পুঁজিবাজারের এমন ধারাবাহিক পতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের ক্রেতা সংকট থাকায় প্রতিদিন পোর্টফোলিওর মূল্য কমছে, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এই পতন প্রবণতা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক কার্যদিবসের ওঠানামার পর স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়েছেন। অন্যদিকে নতুন করে বড় বিনিয়োগ না আসায় বাজারে ক্রয়চাপ দুর্বল রয়েছে। ফলে সামান্য বিক্রির চাপেই সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বড় মূলধনী ও ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়েছে।

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা না ফেরা এবং নতুন অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা ও চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাজারে স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৬৮ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩ টির, দর কমেছে ২৫৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ৭২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪২ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬২৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১১ টির এবং ৩১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।