ইমরান হোসাইন, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের যে কঠিন আইনি বেড়াজাল ছিল, বিশেষ ক্ষেত্রে তা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবারের কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক পুনর্গঠিত পর্ষদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ফলে পর্ষদ পুনর্গঠন হওয়া কোম্পানিগুলোর মূলধন সংগ্রহের পথ এখন উন্মুক্ত হলো।

২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের পর দেখা গিয়েছিল, অনেক কোম্পানির উদ্যোক্তারা তাদের হাতে থাকা শেয়ার উচ্চমূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে পর্ষদ থেকে সটকে পড়েছিলেন। এতে কোম্পানির ওপর তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকত না।

এই ‘অনৈতিক’ প্রবণতা ঠেকাতে এবং পর্ষদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে বিএসইসি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা দেয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

গত বছরগুলোয় এই আইনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই দেখা গেছে। ইতিবাচক দিক ছিল, পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল দুর্বল বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর ওপর।

দেখা গেছে, অনেক কোম্পানির পর্ষদ অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু নতুন যে পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েছে, তাদের পক্ষে রাতারাতি বাজার থেকে ৩০ শতাংশ শেয়ার কেনা সম্ভব ছিল না। ফলে আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো মূলধন বাড়ানোর (রাইট বা বোনাস শেয়ার ইস্যু) কোনো সুযোগ পেত না। টাকা ছাড়া ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় অনেক ভালো সম্ভাবনাময় কোম্পানিও রুগ্ণ হয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বছরের পর বছর লভ্যাংশহীন করে রেখেছিল।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসির আজকের এই নির্দেশনার ফলে পুঁজিবাজারে তিনটি বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠিত হয়েছে কিন্তু মূলধনের অভাবে ব্যবসা করতে পারছিল না, তারা এখন রাইট শেয়ার বা বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলতে পারবে। এতে কোম্পানিগুলোর উৎপাদনে ফেরার এবং মুনাফা করার পথ প্রশস্ত হলো।

অনেক সময় নতুন বিনিয়োগকারী বা কোনো বড় গ্রুপ দুর্বল কোম্পানির দায়িত্ব নিতে চায়। কিন্তু ৩০ শতাংশ শেয়ারের বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা পিছিয়ে যেত। এখন এই নিয়মের শিথিলতা নতুন বড় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে। যেসব বিনিয়োগকারীর টাকা বছরের পর বছর বন্ধ থাকা বা লোকসানি কোম্পানিতে আটকে ছিল, কোম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা শুরু করলে শেয়ারের দাম এবং লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।