স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রির গেইন ট্যাক্স সনদ লাগবে না দেশের পুঁজিবাজারের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের। গত বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের টাকা নিজ দেশে ফেরত নেয়া বা বাংলাদেশে পুণরায় বিনিয়োগ করতে আরও উৎসাহী হবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির টাকা সরাসরি তাদের নিটা অ্যাকাউন্টে (নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট) জমা করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজ দেশে লাভের টাকা নেয়ার সময় ব্যাংকগুলো সরাসরি করের অর্থ আদায় করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগেও গেইন ট্যাক্স সনদের কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে কোনো কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী নিজ থেকেই গেইন ট্যাক্স সনদ নিতেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সুপারিশ ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গেইন ট্যাক্স সনদ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশে অর্থ ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবেন।

সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মিসবাহ উদ্দিন আফান ইউসুফ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় বাধা ছিল। আগে ছোটখাটো লেনদেনের জন্যও ক্লায়েন্টদের ম্যানুয়ালি একটি সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে কাস্টোডিয়ান ব্যাংকে জমা দিতে হতো। কেপিএমজি-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এটি পরিচালনা করতে পারলেও, ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ছিল একটি দুঃস্বপ্ন।

তিনি আরও যোগ করেন, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত স্বাধীনভাবে লেনদেন করতে পারতেন না। এখন ব্যাংক নিজেই ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর গণনার বিষয়টি দেখবে এবং শুধুমাত্র বিদেশে অর্থ পাঠানোর সময় সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। এটি একটি বিশাল স্বস্তি, যা নির্বিঘ্নে লেনদেনের সুযোগ করে দেবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম এই পদক্ষেপকে বাজারের জন্য একটি ‘মৌলিক পরিবর্তন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মূলধনী মুনাফা কর চালুর পর থেকে ‘এনআইটিএ’ লেনদেন সহজ করার জন্য ডিএসই এবং ডিবিএ একাধিকবার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। অবশেষে এই সমস্যার সমাধান হলো। এটি বিদেশি পুঁজির অবাধ প্রবেশ ও প্রত্যাবাসনের বাধা দূর করল, যা বাজারের তারল্য (লিকুইডিটি) বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, একটি ‘এনআইটিএ’ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স তালিকাভুক্ত শেয়ার এবং আইপিও কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সহজীকৃত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রয়োজনীয় কর কেটে রাখার পর এই অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের পাশাপাশি লভ্যাংশ এবং শেয়ার বিক্রির অর্থ সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় অবাধে বিদেশে পাঠানো সম্ভব।