শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে চলছে জুন ক্লোজিং কোম্পানির লভ্যাংশের মৌসুম। তবে জুন ক্লোজিং কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিলেও এর প্রভাব কিছুটা কম। বরং লভ্যাংশ ঘোষণার পর কোম্পানিগুলোর আরো দরপতন ঘটে। তবে এবার জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলো নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ফলে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতি বছরই বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হারে লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে।

তা সত্ত্বেও এসব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। গত এক মাসে বিনিয়োগকারীদের জন্য উচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ারের দাম কমেছে বেশকিছু কোম্পানির। তেমনি লভ্যাংশ ভালো দিলেও কিছু কিছু কোম্পানির মুনাফা গত বছরের তুলনায় কমেছে। এছাড়া গত এক মাসে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশের হালচাল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ: ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা। এর মধ্যে ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। বাকী ১০ শতাংশ বোনাস। গত বছর কোম্পানিটি ৩৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

ইবনেসিনা ফার্মা: ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। গত বছর কোম্পানিটি ৬৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ৫১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৪৪ টাকা থেকে ১৩৪ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড: ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ১৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮৭ টাকা থেকে ৭৯ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি পিএলসি: সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি পিএলসি গত ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ৯ শতাংশ বোনাস। তবে গত বছর কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৬০ টাকা থেকে ২১২ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড: এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬১ টাকা থেকে ৫১ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড: এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ২৫ শতাংশ বোনাস। তবে গত বছর কোম্পানিটি ৪৫ শতাংশ নগদ ও স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৫৭ টাকা থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

এপেক্স ফুডস লিমিটেড: এপেক্স ফুডস লিমিটেড ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করেছে। টানা পঞ্চম বছরের মতো কোম্পানিটি ধারাবাহিক ২০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৫৫ টাকা থেকে ২৩২ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং: এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। টানা পঞ্চম বছরের মতো কোম্পানিটি ধারাবাহিক ২০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৭৫ টাকা থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

বঙ্গজ লিমিটেড: বঙ্গজ লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের শেয়ারহোল্ডারদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তবে গত বছর কোম্পানিটি ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৩২ টাকা থেকে ১১৩ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থার ঘাটতির পাশাপাশি উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ারদরের বাড়বাড়ন্তের কারণে ভালো শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হচ্ছে না। এছাড়া দেশের পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা এমনিতেই বেশ কম। তার ওপর বাজারের হতাশাজনক পরিস্থিতির কারণে নতুন করে দেশী-বিদেশী ভালো কোম্পানিগুলোও আসছে না। ফলে এখানে বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের সংখ্যা কম বলে প্রায়ই অভিযোগ উঠছে। এ অবস্থায় উচ্চহারে লভ্যাংশ ঘোষণাকারী কোম্পানির শেয়ারদরে নিম্নমুখিতা বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি বাজার বিমুখ করে তুলবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবাই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিলেন। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তি ও শেয়ারদর কারসাজি প্রতিরোধে কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল সবার। যদিও এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা কাজ করছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট (ডিবিএ) সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের মূল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের মিউচুয়াল ফান্ডের অবস্থা এত দুর্বল যে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ভিত তৈরি করতে পারিনি।

এর ফলে ভালো শেয়ারের ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অবস্থান নেবেন সেটি হচ্ছে না। এর বিপরীত চিত্র হচ্ছে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ারের দর দ্বিগুণ, তিন গুণ হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাসেও এ ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা গুজবের ভিত্তিতে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছে। সূত্র: দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ