শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে কমিশনের ৯৭৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের ওপর পরিচালিত অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য: চেয়ারম্যান মিসেস শান্তা সিনহা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান সিনহা, পরিচালক আহসান হাবিব সিনহা, পরিচালক কে এম হেলুয়ার; কোম্পানি সচিব সবুজ কুমার ঘোষ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সেলিম রেজা এবং প্রতিবেদনে উল্লেখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যারা শেয়ারের বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন মো. আফজাল হোসেন, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মো. মতিউর রহমান, বিক্রমপুর পটেটো ফ্লেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, তফাজ্জল হোসেন ফরহাদ, জাভেদ এ মাতিন, বেঙ্গল অ্যাসেটস হোল্ডিংস লিমিটেড, চিটাগং পেস্টিসাইডস অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেড, হেরিটেজ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, এনআরবি ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, আঞ্জুমান আরা বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সারওয়ার, এনআরবি ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (এমডিএ), তৌহিদা আক্তার, মো. রুহুল আজাদ ও রাণু ইসলাম।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের ইস্যু ম্যানেজার শাহজালাল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (এসইএমএল) প্রসপেক্টাসে মিথ্যা বা অসংগত তথ্য দাখিল করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

প্রি-আইপিও সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির বাস্তব আর্থিক অবস্থা প্রতিফলিত না করায় নিরীক্ষক সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং (Shiraz Khan Basak & Co.)-এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে যথাযথ তথ্য সন্নিবেশিত না থাকায় নিরীক্ষক Shafiq Basak & Co.-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (FRC)-এ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা ফার্ম এ হক অ্যান্ড কোং, রিংসাইন টেক্সটাইল লিমিটেডের ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ অর্থবছরের নিরীক্ষা ফার্ম আহমেদ অ্যান্ড আক্তার, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং, আতা খান অ্যান্ড কোং ও সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং,

আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের ২০২০ অর্থবছরের নিরীক্ষা ফার্ম ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোং এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০১৮ ও ২০১৯ অর্থবছরের নিরীক্ষা ফার্ম মাহফেল হক অ্যান্ড কোং-এর আর্থিক প্রতিবেদনেও গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে।

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ না করায় এসব নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা ফার্মকে শুনানিতে ডেকে কারণ দর্শাতে বলা হবে কেন তাদেরকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি, বিনিয়োগ স্কিম ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অডিট ও অ্যাসিউরেন্স কার্যক্রম থেকে পাঁচ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না।