শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ঋণখেলাপির কারণে প্রায় ৫৩৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটি ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জুবেলি রোড শাখা থেকে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ধরা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর। মুলত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট পিএলসি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিলামের জন্য প্রস্তাবিত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় ১৫ একর জমি এবং আরামিট সিমেন্ট, অ্যারামিট পাওয়ার লিমিটেড, অ্যারামিট স্টিল পাইপস লিমিটেড ও অ্যারামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড এর কারখানা ও ভবন। ব্যাংকের নথি অনুযায়ী কোম্পানি প্রায় ৬.৬১ একর জমি বন্ধক রেখেছিল। ২০২২ অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হওয়া ঋণ ২০২৩ সালে ৪২৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

ইসলামী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর প্ররোচনায় ব্যাংক এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিয়েছিল, কিন্তু সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক আইন মেনে ঋণ আদায়ের এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরামিট সিমেন্টের একজন স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, যার কাছে কোম্পানির ১৪.৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তার স্ত্রী রুখমিলা জামান পূর্বে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। অন্যান্য স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে অ্যারামিট লিমিটেড (১৯.২৯ শতাংশ), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (৬.৪৩ শতাংশ) এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ আইসিবি (৫.২৩ শতাংশ)।

আরামিট সিমেন্ট শুধু ইসলামী ব্যাংকের কাছে নয়, আরও একাধিক ব্যাংকের ঋণের দায়ে আইনি জটিলতায় রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া দায়ের করা মামলার পর চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়াও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ অপরিশোধিত থাকার কারণে চেক ডিজঅনার মামলা করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিদর্শন দল গত ২৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে দেখেছে যে কোম্পানির কারখানা উৎপাদন বন্ধ করেছে। এক সিনিয়র কোম্পানি কর্মকর্তা জানান, কাঁচামালের অভাব, তারল্য সংকট এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে রাজি না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

কোম্পানির মোট দায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ সুদ। গত তিন অর্থবছর ধরে অ্যারামিট সিমেন্ট লোকসান করছে। সর্বশেষ ২০২২ অর্থবছরে এটি ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করলেও বর্তমানে ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আরামিট সিমেন্টের শেয়ারের দাম ১.৫৭ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১৮ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১০ টাকা ৫০ পয়সা।