পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে প্রফিট টেকিংয়ের চাপ, বিমা খাতের শেয়ারে সুবাতাস
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও জুন ক্লোজিং ও বিমা খাতের শেয়ারে একচেটিয়া দাপট ছিল। অন্যদিকে প্রফিট টেকিংয়ের চাপে ব্যাংক খাতে শেয়ার বিক্রির হিড়িক ছিল।
তবে এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে বেশির ভাগ শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে সকাল ১১টার পর থেকে ব্যাংক, বিমাসহ অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বাড়তে থাকে। ফলে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু শেষ ঘণ্টার লেনদেনে এসে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দামে ঢালাও দরপতন হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতের ওপরও। অবশ্য এর মধ্যেও বিমা কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ধারা ধরে রাখে। তবে অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার দাম কমায় সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭.৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩.৬২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৩.০৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১৭৫টি কোম্পানির, কমেছে ১৪৫টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭২টির। এদিন ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৫৯ কোটি ৩ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২১.৫৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৯.৪৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭০২ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ০.৯২ পয়েন্ট কমে ৯৯২ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৬৯.৫৯ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে মোট ২৩৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১০৮টি কোম্পানির, কমেছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ২২টির। সিএসইতে ১২ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

