প্রফিট টেকিংয়ের চাপে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, ডিএসইতে বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
স্পেশাল করেসপেন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মাথায় স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে শুরু করছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল লুটপাট হওয়া পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গত এক বছরে সরকারের সদিচ্ছা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজার থেকে হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ফলে গত কয়েকদিনের তেজিভাবের কারণে ফের বাজারমুখী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
একই সঙ্গে বাজারে যে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছিল, সেটা স্বস্তিকর অবস্থায় ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করছে। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার। বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের গতি বাড়ছে। এতে লেনদেনে একের পর এক রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।
এর মাধ্যমে গত ২৪ আগস্ট সৃষ্টি হওয়া রেকর্ড ভেঙে ডিএসইতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার ঘটনা ঘটলো। সেইসঙ্গে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে লেনদেনে নতুন রেকর্ড হলেও ডিএসইতে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানি। ফলে প্রধান মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এ বাজারটিতে বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে শুরু হয়। এতে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। কিন্তু লেনদেনের শেষ দিকে ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম গড়পড়তা পড়তে থাকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও।
ফলে অধিকাংশ কোম্পানির দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তবে বেড়েছে টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে সূচকের উঠানামার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হচ্ছে। এটা বাজারের জন্য পজেটিভ দিক। বাজার একটানা বাড়ছে না তেমনি একটানা কমছে না। তবে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের কিছুটা পতন হচ্ছে। ফলে মুনাফা তোলার চাপ কমলে আবারও বাজারে ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। সাম্প্রতিক লেনদেনের গতি এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৪৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক.৭১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৯০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২৩ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৭ টির, দর কমেছে ২১৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৭৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৪২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৭ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৫ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

