স্পেশাল করেসপেন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত ৮টি ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেকহোল্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে। বিএসইসির তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট সম্পদ (এনএভি) পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের চেয়ে কম থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, নিট সম্পদে ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর সম্প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিট সম্পদে ঘাটতি পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো: মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড, মীর সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কলম্বিয়া শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, উইংসফিন লিমিটেড, ফারিহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, অ্যাসুরেন্ট সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ম্যাট্রিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং তাসিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাকিব আল হাসান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান। সাকিব ও হিরু ব্যবসায়িক অংশীদার। মীর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেন। তিনি মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একাধিক অনুরোধের ভিত্তিতে ৮টি ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নিট সম্পদে ঘাটতির কারণে কমিশন ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) রুলস ২০২০ অনুযায়ী, যে কোনো ব্রোকারেজ হাউজের নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি থাকতে হবে। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বিএসইসির তদন্তে ৮টি ব্রোকারেজ হাউজের নিট সম্পদের ঘাটতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।