পুঁজিবাজারে সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে, বেড়েছে লেনদেন ও সূচক
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও ধসের পর দেশের পুঁজিবাজারে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ফলে টানা ৭ কার্যদিবস দরপতনের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে।
ফলে বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হচ্ছে, ধীরে ধীরে আস্থা ফিরতে শুরু করছে। এদিকে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত লেনদেনের গতি বাড়তে শুরু করেছে। লেনদেন বেড়ে আবারও হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
সেইসঙ্গে ডিএসইতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ওই মাসের শুরুতে টানা ৮ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর এক কার্যদিবস পুঁজিবাজারে দরপতন হয়। তারপর আবার টানা তিন কার্যদিবসে সূচকের উত্থানের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টের শুরুতে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন প্রবণতা দেখা যায়। টানা সাত কার্যদিবস দরপতনের পর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস কিছুটা সূচকের উত্থানের দেখা মিলে। আর চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসেও সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
এতে টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিকে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে। বাজার একটানা দরপতন হচ্ছে না। তেমনি একটানা উত্থানও হচ্ছে না। সূচক ও লেনদেনের এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে বাজার যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, এটি তারই একটি প্রমাণ।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১০১পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪২ টির, দর কমেছে ৯৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৪ টির। ডিএসইতে ৯৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি ৭১ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১২৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৪ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

