পুঁজিবাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা, তিন কার্যদিবসে সূচক উধাও ১২৭ পয়েন্ট
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে ফের টানা দরপতন দেখা গেছে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে ব্যাংক খাত সহ কিছু খাতে প্রফিট টেকিংয়ের কারণে টানা তিন কার্যদিবস দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত পুঁজিবাজারে এ টানা দরপতনে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক খাত। প্রতিদিন ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমার প্রভাব অন্য খাতের ওপরও পড়ছে।
ফলে বড় হচ্ছে দাম কমার তালিকা, সেইসঙ্গে কমছে মূল্যসূচক। তবে টানা তিন কার্যদিবসে সূচকের পতন দেখা গেলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অংশগ্রহণে কোনো ভাটা পড়েনি। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী কাজী বলেন, পুঁজিবাজারে গত তিন কার্যদিবস টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া আগামী দিনগুলোতে বাজারের গতিবিধি কেমন থাকে তা দেখার জন্য বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের গুজবে কান না দিয়ে সর্তক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের গতিবিধি স্বাভাবিক রয়েছে। ব্যাংক খাতের শেয়ারের টানা উত্থানে প্রফিট টেকিং চলছে। তবে বাজারে তিন কার্যদিবস টানা পতনে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দু:চিন্তায় পড়ছেন। তাছাড়া পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক উত্থানের পর সূচকে এই স্বাভাবিক শুদ্ধিকরণ দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজার গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তেমনি বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে হতাশার নয়, বরং নতুন বিনিয়োগের প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯ টির, দর কমেছে ২৬৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১ টির। ডিএসইতে ৭০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৮৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৩ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৯ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

