লাফিয়ে দর বাড়ায় বিক্রিতে রাজী নয় ৯ কোম্পানির শেয়ার
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা ছয় কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ৯ কোম্পানির শেয়ার। মুলত এসব কোম্পানি স্বল্প মূলধনী। নিয়মিত লভ্যাংশ না দিলেও কারসাজির ক্ষেত্রে পূর্বেও রেকর্ড রয়েছে। মুলত কারসাজি চক্রের ইশরায় এসব শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়ছে।
৯ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে: বিডি ফাইন্যান্স, আরামিট লিমিটেড, জেমিনি সি ফুড, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিমা ফুড, জিকিউ বলপেন, উত্তরা ফাইন্যান্স। এর মধ্যে উত্তরা ফাইন্যান্স ও জিকিউ বলপেন দিনের সর্বোচ্চ দাম ধরে রাখতে পারেনি।
বিডি ফাইন্যান্স: ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে বিডি ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৯ টাকা থেকে বেড়ে ৯ টাকা ৯০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৯০ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। আগের বছর ২০২৩ সালেও বড় লোকসান করায় কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। তার আগের ২০২২ সালে ১০ শতাংশ নগদ, ২০২১ সালে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শথঅংশ বোনাস শেয়ার, ২০২০ সালে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শথঅংশ বোনাস শেয়ার এবং ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
আরামিট লিমিটেড: সর্বোচ্চ দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরামিট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দাম ১৭৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৭ টাকা ৩০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ২৫ শতাংশ নগদ, ২০২২ সালে ৫০ শতাংশ নগদ, ২০২১ সালে ৫০ শতাংশ নগদ, ২০২০ সালে ৫০ শতাংশ নগদ এবং ২০১৯ সালে ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
জেমিনি সি ফুড: জেমিনি সি ফুডের শেয়ার দাম ১৩৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫১ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৩ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ৭৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০২২ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০২১ সালে ৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং: নর্দান জুটের শেয়ার দাম ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৯ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ২০২০ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। ২০২০ সালে ৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৯ সালে ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক: স্ট্যান্ডার্ড শেয়ার দাম ৬৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৭১ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ২০২১ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০২১ সালে ১ শতাংশ নগদ, ২০২০ সালে ১ শতাংশ নগদ এবং ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ: কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দাম ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩ টাকা ৩০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ, ২০২২ সালে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ, ২০২১ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০২০ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার এবং ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
রহিমা ফুড: রহিমা ফুডের শেয়ার দাম ১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১১২ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ টাকা বা ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ নগদ, ২০২২ সালে ৫ শতাংশ নগদ এবং ২০২১ সালে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
জিকিউ বলপেন: জিকিউ বলপেনের শেয়ার দাম ১৯৬ টাকা থেকে বেড়ে ২১৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৯ টাকা বা ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে আড়াই শতাংশ নগদ, ২০২২ সালে আড়াই শতাংশ নগদ, ২০২১ সালে ৫ শতাংশ নগদ, ২০২০ সালে ৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
উত্তরা ফাইন্যান্স: উত্তরা ফাইন্যান্সের শেয়ার দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৯০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ২০১৯ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়।

