ব্যাংক খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারে সূচকের কারেকশন, ভয়ের কিছু নেই
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা ছয় কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ একটানা ছয় কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর একটু কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ।
এছাড়া লাখে থাকা শেয়াারে প্রফিট টেকিং ও ব্যাংক খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের কারণে সূচকের কিছুটা দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ ব্যাংক বেশ কিছু ধরে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ভর করে সূচকের বড় উত্থান হয়েছিল। তবে এদিন বেশির ভাড় কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণও কমে এসেছে। মুলত দিনের শুরুতে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল। তবে লেনদেনের অল্প সময় পর থেকেই ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমতে থাকে। ফলে সূচকও নেতিবাচক ঘরেই অবস্থান নেয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। যা এর আগের ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩৩ পয়েন্ট, বুধবার ৫৪ পয়েন্ট, মঙ্গলবার ৫ পয়েন্ট, সোমবার ৮২ পয়েন্ট এবং এর আগের সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ২৯ পয়েন্ট ও বুধবার ২৭ পয়েন্ট বেড়েছিল। অর্থাৎ ওই ৬ কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে প্রায় ২৩০ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত কম দামে কেনা শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের কিছুটা কারেকশন হয়েছে। বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। এছাড়া পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাজার ঘুরে ফিরে সব সেক্টরে মুভমেন্ট করছে। এটা বাজারের জন্য ভাল দিক। তেমনি সূচকের উত্থান পতনের মধ্যেও আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। তেমনি নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছেন। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .০৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৭ টির, দর কমেছে ১৭০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫ টির। ডিএসইতে ৬৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৭৯ কোটি ২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১২৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৪ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

