সুদিনের সুবাতাস বইছে পুঁজিবাজারে, ছয় কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ২২৯ পয়েন্ট
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সুদিনের সুবাতাস বইছে দেশের পুঁজিবাজারে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের টানা চার কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। ধারাবাহিক উত্থানে লোকসান কাটিয়ে আবারও মুনাফার প্রত্যাশায় সক্রিয় হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
গত রোববার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে লেনদেন বন্ধ থাকায় সপ্তাহটিতে মাত্র চার কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে। তবে এই চার দিনেই সূচকের টানা উত্থান বাজারে ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে জুলাই মাসে টানা ছয় কার্যদিবস সূচকের উত্থান হয়েছে। এই ছয় কার্যদিবসে ডিএসইতে ২২৯ পয়েন্ট সূচকের উত্থান হয়েছে। একই সাথে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাজারে সুদিনের সুবাতাস দেখা গিয়েছে। ফলে টানা সূচকের উত্থানে আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। তেমনি নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছেন। এছাড়া পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমান বাজারের এ গতি চলমান থাকলে লেনদেন ও সূচকে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। এছাড়া বাজারে ঘুরে ফিরে সব সেক্টরে মুভমেন্ট করার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বেশি আস্থা বেড়েছে।
ডিএসইর সূত্র মতে, পুঁজিবাজারে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময়ে দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে গত জুন মাসের শুরু থেকে উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। ফলে জুন মাসে ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ কার্যদিবস বেড়েছে সূচক। আর বাকি পাঁচ কার্যদিবস সূচক কমেছে। মুলত ১১ কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ৩৬৪ পয়েন্ট। এছাড়া ৫ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ১৬৬ পয়েন্ট। ফলে সূচকের উঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার। এদিকে জুলাই মাসের ছয় কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এই ছয় কার্যদিবস সূচক বেড়েছে। এসময় ছয় কার্যদিবস ডিএসতে ২২৯ পয়েন্ট সূচকের উত্থান হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে টানা কয়েক কার্যদিবসের সূচকের ইতিবাচক ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হচ্ছে। তবে লেনদেনের পরিমাণে মিশ্রতা কিছুটা সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৬ টির, দর কমেছে ১২৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭০ টির। ডিএসইতে ৬৭৯ কোটি ২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৯০ কোটি ৬২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩০ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১২৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৭ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

