যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে উত্তাল পুঁজিবাজার, লোকসানে শেয়ার বিক্রির হিড়িক
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে সামরিক হামলার খবরে ডিএসইতে ৭৬ পয়েন্ট সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদরে ক্রেতা সংকট দেখা যায়। এছাড়া আর্থিক খাত ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের বক্তব্যে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে ক্রেতা সংকট দেখা যায়।
যার ফলে ঈদের ছুটি শেষে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শুরু হয়েছে। এছাড়া চলতি জুন মাসের শুরু থেকে উত্থানে ছিল পুঁজিবাজারে।
এই সময়ের মধ্যে ১০ কার্যদিবস লেনদেনে ছয় কার্যদিবস বেড়েছে সূচক। আর বাকি চার কার্যদিবস সূচক কমেছে। এর আগের মাসে ধারাবাহিক পতনের পর সূচক যখন বেড়েছে তখন সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থানে ফিরে। পতনের বৃত্তে আটকে থাকা সূচক চলতি মাসে উত্থান ফিরলে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়তে থাকে।
হঠাৎ সূচকের বড় দরপতন প্রসঙ্গে ডিএসই’র এক সদস্য বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে এক যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে গেছে। ফলে এই যুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছে। এতে সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আতঙ্কের জেরেই বাজারে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়। তার ফলেই এমন দরপতন হয়েছে।
তবে ডিএসইর আরেক সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পুঁজিকবাজারে মন্দা বিরাজ করছে। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায়। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় দরপতন স্বাভাবিক ঘটনা না। তেমনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক থেকেই এমন দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি প্যানিক হয়ে গেছেন। বিনিয়োগকারীরা প্যানিক না হলে বাজারে এত বড় পতন হতো না। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত না হলে শিগগির বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা থাকলেও বাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তারা বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সময়োপযোগী ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত নয়। তবে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও দূরদর্শিতাই বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের পুঁজিবাজার বড় আকারে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৬৭৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬ টির, দর কমেছে ৩৬৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬ টির। ডিএসইতে ২৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৫ কোটি টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০৭ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫৩ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

