স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর দেশের পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দাপট দেখিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো। এতে মূল্যসূচকের যেমন বড় উত্থান হয়েছে, তেমনি বেড়েছে লেনদেনের গতি।

ফলে ডিএসইতে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে সূচক। মুলত পুঁজিবাজারে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব নতুন নয়। নির্বাচন সামনে এলেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। সেই প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ আসে। পুরোনো বিনিয়োগকারীরাও বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করেন।

পাশাপাশি নির্বাচন শেষে শেয়ারের দাম বাড়তে পাওে এই আশায় বাজারে ‘বাই-সেল’ তৎপরতাও বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে শেয়ারের দরে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও পুঁজিবাজারে সেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সূচকের বড় উত্থানে সুবাতাস বইছে পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে। এদিকে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরছে। কারণ দীর্ঘদিন পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে বড় উত্থানে নির্বাচনের আগে সুবাতাস বইছে। ফলে আস্থা সংকট কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। আশা করি বাজারের এ গতি চলমান থাকলে বাজারবিমুখ বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে এমন আশায় বিনিয়োগকারীরা আবারও পুঁজিবাজারমুখী হচ্ছেন। ফলে সূচক বাড়লেও বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন তারা। ফলে এই সময়ে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে যে শেয়ারগুলো ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং বা সাস্টেইনেবল নয়, সেখানেই সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ধারা থেকে বের হতে না পারলে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করা কঠিন হবে। তবে নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থান হবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩১১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩১ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৭ টির, দর কমেছে ৩৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির। ডিএসইতে ৬৪৬ কোটি ১৬ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৬৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৯২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১৩০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪১ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।