স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা অস্থিরতায় মধ্যে দিয়ে বছর পার করছে দেশের পুঁজিবাজার। বিরাজ করছে নানান জটিলতা ও শঙ্কা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে। এ অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপেও গত ১৭ মাসে গতি ফিরে পায়নি পুঁজিবাজার। এমন অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম। এ সময়ে দেশের পুঁজিবাজার চাঙ্গা হওয়ার আশা করা হলেও নির্বাচনের কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। তবে যে কোন সময় বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। তবে সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। তার মধ্যে ডিএসইতে সপ্তাহের ব্যবধানে ২ হাজার ৪০১ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। ফলে বিদায়ী সপ্তাহে উভয় পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৭২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেনে বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ২ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বা দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ১ হাজার ৪১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৯৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১০ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৯১৪ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৬ টির, কমেছে ১৭৭ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩০১.৯২ পয়েন্ট বা ২.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৯৪ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ৩.০৪ শতাংশ কমে ১২ হাজার ৪৮৮ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ২.৫১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৯০ শতাংশ বেড়ে ৮৬০ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ৭.৯২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ২১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৩২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৭২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৪টির, দর কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির শেয়ার ও ইউনিট দর।