অ্যাগ্রো অর্গানিকা’র লভ্যাংশ ইস্যুতে নাটকীয়তায় এবার ডিএসইর তদন্তের জালে
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত এসএমই প্ল্যাটফর্মে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি অ্যাগ্রো অর্গানিকা পিএলসির সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় এই তদন্ত শুরু হয়েছে। কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করেছে, তা প্রসপেক্টাস ও বিধি-বিধান অনুযায়ী করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসএমই প্ল্যাটফর্মে প্রায় তিন বছর আগে লেনদেন শুরু করলেও এখন পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি। এই কারণেই বিএসইসি কোম্পানিটির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে ‘অ্যাগ্রো অর্গানিকা’ পিএলসির লভ্যাংশ ইস্যুতে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সাথে নাটকীয়তা শুরু করছে।
পুঁজিবাজারে লেনদেনের ৩ বছর পার হলেও এখনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এছাড়া কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ নাকি চালু এ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ধোয়াশায় রয়েছেন। কারণ গত তিন বছরেও প্রকাশ হয়নি কোম্পানিটির মূল্য সংবেদশীল কোন তথ্য। এছাড়া কোম্পানিটি ২০১৫ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করলেও এদের পন্য কোন বাজারে দেখা যাচ্ছে না। কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস এর তথ্য অনুযায়ী চাল, জাফরান, ইসবগুল, মশলা, ঘি, জেলি ও আচার বাজারজাতকরন করে থাকে। তবে বর্তমানে কোম্পানিটির কোন পন্য বাজারে দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র মতে, বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ৯টি নতুন নির্দেশনা সাপেক্ষে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নতুন নির্দেশনাগুলো অবহিত করা হয়েছে। গত ২৯ মে বিএসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে চিঠির মাধ্যমে কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, পূর্ববর্তী নির্দেশনার পাশাপাশি পরিদর্শন কার্যক্রমে আরও ৯টি শর্ত যুক্ত করতে হবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস-২০২০ এর রুল ১৭ অনুযায়ী তদন্ত বিভাগে একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
অ্যাগ্রো অর্গানিকার পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও ৩০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে, যা ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তদন্তে দেখা হচ্ছে কিউআইও থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাস ও কমিশনের সম্মতিপত্র অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে কি না। এছাড়া নগদ অর্থ ব্যয় ছাড়া সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হয়েছে কি না এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন যথাযথ কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
কমিশনের শর্ত ২৬ অনুসারে অর্থের ব্যবহার এবং সময় সংশোধনের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অ্যাগ্রো অর্গানিকা এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন চালু করলেও তিন বছর ধরে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেনি, এ কারণও তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির লভ্যাংশ ঘোষণা আছে কি না তা উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) সম্পর্কিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।
২০২৩ সালের ৩১ মে বিএসইসি কোম্পানিকে কিউআইও মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়। কোম্পানিটি ১০ টাকা মূল্যের ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। পরে ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যার মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৩৩ লাখ।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে ৩৬.৪৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫০.৫৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

