স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল ভূমিকা ও দীর্ঘদিনের অনিয়মে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। লেনদেনে দেখা দিয়েছে খরা। বাজার দীর্ঘদিন ধরেই মন্দার মধ্যে আছে। গত ১৮ মাস ধরে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আসেনি। সব মিলিয়ে দেশের পুঁজিবাজার এখন কার্যত গতিহীন অবস্থায় রয়েছে। এদিকে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না। কারণ গতিহীন পুঁজিবাজারে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেনে ভাটা পড়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পছন্দের তালিকার বাইরে চলে যাওয়া বীমা খাত ও ওষুধ রসায়ন খাতের শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করছে। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে বীমা খাতের শেয়ারে একচেটিয়া প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে বীমা খাত সহ শীর্ষ মূলধনীর কয়েক কোম্পানির শেয়ারে ভর করে সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। তবে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী হোসাইন আলী কাজী বলেন, দীর্ঘদিন পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ থাকায় বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। কারণ মাঝে মধ্যে সূচকের উত্থান হলেও তা টিকছে না। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই। এছাড়া ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে বাজারে লেনদেন বাড়াতে হবে।

তেমনি কোনো কারণ ছাড়াই শুধু বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিক্রয় চাপ সৃষ্টি করা হলে তা একদিকে পুঁজিবাজারকে যেমন অস্থির করে তেমনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিজেদের লোকসানের মুখেই ঠেলে দেয়। তাই বাধ্য না হলে কোনো অবস্থায়ই লোকসান বা পুঁজির ওপর ঝুঁকি বাড়ানো উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯৯৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯০৮ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৪ টির, দর কমেছে ১৩৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৭ টির। ডিএসইতে ৩৬৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯১৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৬৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭০ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।