বিশেষ প্রতিনিধি, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কোন বাস্তব উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া পুঁজিবাজারে জুন ক্লোজিং বা হিসাববছর শেষ হওয়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) টানা চতুর্থ কার্যদিবসের মতো সূচকের দরপতন হয়েছে।

ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতন হয়েছে। তবে টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমে গেছে। এর ফলে ডিএসইতে লেনদেন কমে ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। কারণ টানা চার কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচক উধাও ৬৮ পয়েন্ট।

মুলত আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ মৌসুমে সর্তক অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না। এছাড়া গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটেনি। কারণ অধিকাংশ সময় সূচকের টানা দরপতনে বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখীই থাকে। তবে শেষ ঘণ্টার লেনদেনে বদলে যায় পুঁজিবাজারের চিত্র। দাম কমার তালিকায় বেশিরভাগ কোম্পানি নাম লেখানোর পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, জুন মাসে হিসাববছর শেষ হওয়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভা ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ঘনিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। বিশেষ করে ওষুধ ও বস্ত্র খাতের বড় কোম্পানিগুলোর আয় ও সম্ভাব্য লভ্যাংশ নিয়ে বাজারে আগ্রহ রয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫২৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২ টির, দর কমেছে ১৭৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৫ টির। ডিএসইতে ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮২ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।