নতুন মার্জিন বিধিমালার সময় না বাড়ালে পুঁজিবাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: নতুন মার্জিন বিধিমালা বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা সামনে রেখে পুঁজিবাজারে বাড়ছে উদ্বেগ। ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সময় বাড়ানো না হলে ব্যাপক শেয়ার বিক্রি শুরু হয়ে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে এক ধরনের নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই নতুন মার্জিন নিয়ম বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন মাস সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিলের পরিবর্তে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময় দেওয়া হলে বাজারকে বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ডিবিএর নেতারা মনে করছেন, বিদ্যমান ছয় মাসের সময়সীমা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে গিয়ে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ নীতিমালা পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এসব কাজ শেষ করতে পর্যাপ্ত সময় না পেলে তড়িঘড়ি বাস্তবায়নে ভুল বা সেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শেয়ার বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে। নতুন নিয়ম মানতে গেলে অনেক ব্রোকারকে মার্জিন ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এতে বাজারে হঠাৎ বিক্রির চাপ তৈরি হয়ে দরপতন ত্বরান্বিত হতে পারে।
বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে বাজার আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া অনেক বিনিয়োগকারীর মার্জিন অ্যাকাউন্টে এমন শেয়ার রয়েছে, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী আর গ্রহণযোগ্য থাকবে না। এসব শেয়ার দ্রুত সমন্বয় করতে গেলে বাধ্যতামূলক বিক্রির পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে বাজারে তারল্য সংকটও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারের আরেকটি পুরোনো সমস্যা হলো নেগেটিভ ইকুইটি, যা এখনো বড় আকারে রয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে কেনা শেয়ারের মূল্য কমে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, এবং তা দীর্ঘদিন ধরে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটিরও বেশি, যা বাজারের জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীর ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে শৃঙ্খলায় আনতে এই ধরনের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা প্রয়োগ করা না হলে উল্টো অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না—এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে পুঁজিবাজারের স্বল্পমেয়াদি গতিপথ।

