শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। ফলে কোনোভাবেই পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরছে না। এছাড়া আস্থা ও তারল্য সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার। তেমনি ডিএসই ও বিএসইসির অযাচিত হস্তক্ষেপে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে অবস্থান করছেন। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া টানা দরপতনে আস্থা সংকটে দীর্ঘ ৭ মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। ফলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, আগে দরপতন ঠেকানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের। কারণ পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে সংস্কার করে কী লাভ। কারণ যেখানে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি থাকবে না। সেখানে সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু সেই কমিশন বাজারকে স্থিতিশীল তো দূরের কথা, স্বাভাবিক রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। বরং ধারাবাহিক দরপতনে বাজার এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ফলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব গোষ্ঠীর মনেই এখন এক চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কবে ফিরবে পুঁজিবাজারের সুদিন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা। কারণ মাঝে মধ্যে সূচকের উকি মারলেও বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। তাই আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা বিএসইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।

কারণ বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে পুঁজিবাজার ইতিহাসের ভয়াবহ ধসের মুখে পড়ে। সে সময় বাজারের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর অন্যান্য খাতের মতো পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। তবে সে পরিবর্তন বেশি দিন টিকেনি।

পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। তবে সূচক ও লেনদেনের রেকর্ড বেশি দিন টিকেনি। বরং গত দুই মাসের টানা দরপতনে ডিএসইর ৪৫০ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়।

মুলত সরকারের প্রত্যাশা ছিল, নতুন কমিশনের অধীনে বাজার আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে। কিন্তু নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাজারে ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়। মাঝে মধ্যে সূচক বাড়লেও সেই উত্থান বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। ফলে পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহ থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারণ পুঁজিবাজারের এমন করুণ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারছে না। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংস্কার ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও চলমান ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উপর চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে বিনিয়োগকারীদের।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। তবে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৫৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৫ টির, দর কমেছে ১৩৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫ টির। ডিএসইতে ৪১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫২২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৩ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।