ইবনে সিনা ফার্মার মুনাফা ও লভ্যাংশে বড় উল্লম্ফনের নেপথ্যে
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) যেমন বেড়েছে, তেমনি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রস্তাবিত নগদ লভ্যাংশের হারও আগের অর্থবছরের তুলনায় বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
শুধু আর্থিক ফল ও লভ্যাংশ বৃদ্ধিই নয়, ব্যবসায়িক সম্পদ বাড়ানোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২৪ হাজার ৩২১ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা কেনার অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এ সম্পদ কিনতে কোম্পানিটির ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১৫৮ টাকা। এর সঙ্গে নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ যুক্ত হবে। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে কোম্পানিটি ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নগদ লভ্যাংশের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ইপিএস ছিল ২০ টাকা ২৭ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা।
শতাংশের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মুনাফার এই বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ লভ্যাংশের হারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের জন্য ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ২৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২১ টাকা ৪৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সায়।
২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৯ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১১১ টাকা ৯৪ পয়সায়।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৩৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৯ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৬৮ পয়সায়।
২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৩৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫ টাকা ৬৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ৩৬ পয়সায়।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ২ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৬০ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৭। এর ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫ দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

