বিশেষ প্রতিনিধি, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারকে সক্রিয় করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নিলেও বাজারে এর স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র।

ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এই উত্থান, এই পতন। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের গতি বৃদ্ধি আর সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীর নতুন স্বপ্ন বোনার আগেই তা ভেঙে যাচ্ছে হুট করে। দুর্দিন কাটিয়ে পুঁজিবাজারে সুদিন ফেরার আভাস দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যার কারণে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা বার বার একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবে রুপ নিচ্ছে না।

কারণ এ পরিস্থিতিতে আশা-নিরাশার দোলাচলে শুরু হচ্ছে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে। ফলে সার্বিকভাবে বর্তমান কমিশনের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এখনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গত ৩ কার্যদিবস টানা দরপতনে সূচক উধাও ৬৭ পয়েন্ট। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫ টির, দর কমেছে ২২৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির। ডিএসইতে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৮ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১০ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।