পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একটি উন্নত, স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসকে আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আপনি যদি গতকাল বা আজকের গণমাধ্যম খেয়াল করে দেখেন, তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ও একটি টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো:
১. বিএসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ।
২. বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার।
৩. লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তকরণে (Direct Listing) উদ্বুদ্ধ করা।
৪. ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও SME কোম্পানিকে বাজারে আনা।
৫. কারসাজি রোধে তথ্য প্রদানকারীর (Whistleblower) সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৬. অডিট ফার্মগুলোর জন্য প্যানেল নীতিমালা প্রণয়ন।
৭. ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস ও লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল।
৮. পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের বিধান।
৯. ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন।
১০. ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই (AI) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু।
১১. ই-কেওয়াইসি (E-KYC) ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ।
১২. বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি উন্নত পুঁজিবাজার গড়তে চাই যেখানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।

