শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অভিযোগ উঠছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শেয়ার হস্তান্তর, নেগেটিভ ইক্যুইটি, মার্জিন ঋণ, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনের অসংগতি খতিয়ে দেখতে বিএসইসি দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালে সমন্বিত গ্রাহক হিসেবে ঘাটতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

তবে এ অভিযোগ শেষ হতে না হতে এবার এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন ও বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি এবং বেআইনিভাবে ফোর্সড সেলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক ও বিনিয়োগকারী মো. আসলাম সেরনিয়াবাত।

অভিযোগে তিনি বেআইনিভাবে বিক্রি করা শেয়ার ফেরত দেওয়া এবং পরবর্তী ফোর্সড সেল স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। রোববার বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিনিয়োগকারী আসলাম সেরনিয়াবাত জানিয়েছেন, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গত ১১ ও ১৪ জুন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ জুন বিএসইসির কাস্টমার কমপ্লেইন অ্যাড্রেস মডিউলে (সিসিএএম) অভিযোগ (নং-২০২৬০৬২৩৪১২) করা হয়। একই অভিযোগ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকেও (ডিএসই) জানানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ জুন ব্রোকারেজ হাউজটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আসলাম সেরনিয়াবাত জানালেন, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ তার ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত ১:১-এ নামিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়। তখন তার ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ায় তার ডিপোজিট দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত ১:০.৯২-এ নেমে আসে।

এরপর চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে আর কোনো মার্জিন কল নোটিস দেওয়া হয়নি। ফলে ১১ ও ১৪ জুন পূর্বানুমতি ছাড়াই ৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে তার হিসাবে কৃত্রিমভাবে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে।

এরপরও ৩০ জুন তাকে চূড়ান্ত মার্জিন কল দিয়ে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪১৬ টাকা জমা দিতে বলা হয়; কিন্তু ওই দিন সকালেই তার আরও ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন আসলাম সেরনিয়াবাত।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করব। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।