পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ও একটি টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বাজারকে গতিশীল করতে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি উন্নত পুঁজিবাজার গড়তে চাই যেখানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
পুঁজিবাজারকে ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে যেসব অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে, বর্তমান সরকার তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক অনুসন্ধান করা হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। অপরাধীদের তালিকা অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়েছে।
বাজার পতনের কারণসমূহ: বিগত সরকারের আমলে পুঁজিবাজারের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে: বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ; আইপিও ও বন্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম; নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী তদারকির অভাব ও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া; কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং আর্থিক তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অভাব ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অসঙ্গতি।
সরকারের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ও একটি টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো:
১. বিএসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ।
২. বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার।
৩. লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তকরণে (Direct Listing) উদ্বুদ্ধ করা।
৪. ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও SME কোম্পানিকে বাজারে আনা।
৫. কারসাজি রোধে তথ্য প্রদানকারীর (Whistleblower) সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৬. অডিট ফার্মগুলোর জন্য প্যানেল নীতিমালা প্রণয়ন।
৭. ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস ও লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল।
৮. পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের বিধান।
৯. ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন।
১০. ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই (AI) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু।
১১. ই-কেওয়াইসি (E-KYC) ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ।
১২. বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা।

