সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে বিএসইসির তদন্ত কমিটি গঠন
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ ‘সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অভিযোগ উঠছে। মুলত গ্রাহকের অর্থ উত্তোলনে বাধা, সম্মতি ছাড়া অ্যাকাউন্টে সুদ আরোপ এবং অতিরিক্ত লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন হাতিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিটিকে আদেশ জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত এক আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক-এর অধীনে অর্পিত ক্ষমতাবলে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছে কমিশন। তদন্তের জন্য গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক (সাধারণ) মোহাম্মদ আল মাসুম মৃধা, সহকারী পরিচালক (সাধারণ) অমিত কুমার সাহা ও সহকারী পরিচালক (সাধারণ) আলী-আহসান।
কমিশনের তদন্ত আদেশে সিটিজেন সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে বেশকিছু গুরুতর অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজটির নির্দিষ্ট কিছু বিও অ্যাকাউন্টে গ্রাহকের অজান্তে বা অননুমোদিতভাবে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে কিনা এবং তার পরিধি কতটুকু, তা নিরূপণ করা।
গ্রাহকদের নন-মার্জিন অ্যাকাউন্টগুলোকে বেআইনিভাবে মার্জিন অ্যাকাউন্ট হিসেবে দেখিয়ে অননুমোদিত ক্রেডিট বা ঋণ সুবিধা দেয়ার পেছনে কোনো জালিয়াতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা। বিনিয়োগকারীর কোনো প্রয়োজন বা নির্দেশনা ছাড়াই শুধু ব্রোকার হাউজের নিজস্ব কমিশন বা আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক অতিরিক্ত লেনদেন করা হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করা।
বৈধ কোনো মার্জিন চুক্তি কিংবা গ্রাহকের লিখিত বা মৌখিক সম্মতি ছাড়াই পোর্টফোলিওতে আইনবহির্ভূতভাবে সুদ চার্জ করার বৈধতা যাচাই করা। বিনিয়োগকারীদের টাকা উত্তোলনের অনুরোধ বাস্তবায়ন না করা এবং এক হাউজ থেকে অন্য হাউজে শেয়ার স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অস্বীকৃতি বা কালক্ষেপণের অভিযোগ তদন্ত করা।
ব্রোকার হাউজটির এসব বেআইনি কার্যক্রমের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠিক কত টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ব্রোকার নিজে কত টাকা অবৈধ লাভ করেছে, তার প্রকৃত অংক হিসাব করা। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের পেছনে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংকার ও ব্রোকার হাউজের কোন কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

