যৌক্তিক কারণ ছাড়াই টানা দরপতনে পুঁজিবাজার, হতাশা রূপ নিচ্ছে আতঙ্কে
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারের আচরণের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতি কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী হওয়া পুঁজিবাজার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক বিক্রয়চাপে সূচক হারাচ্ছে। যার ফলে টানা চার কার্যদিবস একই আচরণ ঘটল পুঁজিবাজারে। আর এ চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটেছে ৬৬ পয়েন্টের বেশি।
সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করে পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের মতে, অর্থনীতির সব সূচক এ মুহূর্তে ভালোর দিকে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ক্রমেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পুঁজিবাজারও এখন নানা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে ভবিষ্যতে একটি টেকসই বাজারের আশা করা যায়। এমন মুহুর্তে বাজারের আচরন রহস্যজনক।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। এদিন ডিএসইতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। মুলত ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। তবে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার পর দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো।
বিমা কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকলে বিপরীত পথে হাঁটতে থাকে অন্য খাতের কোম্পানিগুলো। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বিমার দাপটের দিনে একদিকে দাম কমার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। অন্যদিকে ৪২টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৪টির দাম কমেছে। আর ২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭ টির, দর কমেছে ১৯৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭২ টির। ডিএসইতে ৮৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০২ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৫ টির এবং ২৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

