পুঁজিবাজারে ১৮ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ
শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একের পর এক কোম্পানির আর্থিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৮টি কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ নথিভুক্তি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কোম্পানিগুলোকে কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে কমিশন। নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিকম, আইটি এবং খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতের কোম্পানি রয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডিভিশনের অধীন করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এ সতর্কতা জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলো হলো: জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, রবি আজিয়াটা পিএলসি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি,
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, ফেডেরাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বিএসইসির চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডিভিশনের করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সিকিউরিটিজ আইন ও কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ধরনের বিলম্বকে কমিশন ‘ডিফল্ট’ ও ‘কন্ট্রাভেনশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে, যা সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এসব প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে, তবে একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই গ্রহণযোগ্যতা কোনোভাবেই আইনগত দায়মুক্তি নয়। বিলম্বের ফলে যদি কোনো বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, সে দায় কোম্পানিকেই বহন করতে হবে।
কমিশন আরো উল্লেখ করেছে, আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি বাড়ায় এবং বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি করে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ নথিভুক্ত হওয়া পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুতর সতর্ক সংকেত। বিশেষ করে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সময়মতো তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
এ ধরনের শৈথিল্য বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য হুমকি। কমিশনের এই কঠোর বার্তা ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আর্থিক শৃঙ্খলা মানতে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে পুঁজিবাজারে নিয়ম লঙ্ঘনের সুযোগ আর নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ কঠোর বার্তা ভবিষ্যতে সময়মতো তথ্য প্রকাশে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরেই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট গভর্ন্যান্স ও সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

